বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী "সেরিনা"

In stock
Product Code
BSMOP-1005
৳225

টাইটেল: বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী :সেরিনা
লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রকাশনী: সময় প্রকাশন
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৫
ভাষাঃ বাংলা

যাত্রীবাহী ট্রেনের লাইনে সমস্যা হওয়ায় হওয়ায় হঠাৎ করে অজ্ঞাত একটা গ্রামে নেমে পড়েন ডাক্তার শামীম। মূলত, ট্রেনের জানালা থেকেই গ্রামটাকে দেখে তার কেন যেন খুব ভালো লেগে যায়। যতক্ষণে লাইন ক্লিয়ার না হচ্ছে, সে এই গ্রামটা ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই গ্রামেই আকস্মিকভাবে সে পেয়ে যায় একটা ছোট বাচ্চাকে, যে কী না পানির নীচে দিব্যি শ্বাস নিতে পারে ঘন্টার পর ঘন্টা, মাছের মত, কোনো সমস্যা ছাড়াই। শামীম তার নাম দেয় সেরিনা, নিয়ে আসে নিজের বাসায়। এর আগে শামীম অবশ্য তার স্ত্রী, মেয়েকে হারিয়েছে এক দুর্ঘটনায়, সেরিনার মধ্যে শামীম আবার বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পায়। বাবা-মেয়ের জীবনটাও দিব্যি কাটছিলো। সেরিনার এই বিশেষ ক্ষমতা অবশ্য বাইরের কেউ জানতোনা। শামীম অত্যন্ত যত্নের সাথে বিষয়টা সবার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলো। কিন্তু, একদিন তা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। স্কুলের এক সাঁতার প্রতিযোগিতায় সেরিনার এই পানিতে শ্বাস নেয়ার, পানিতে মাছের মত বেঁচে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতাটা প্রকাশ হয়ে যায়। সাঁতারের সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বিদেশের একদল লোক এই ভিডিওটা দেখে সেরিনার ওপরে এক্সপেরিমেন্টের জন্যে, সেরিনাকে কিডন্যাপ করতে বাংলাদেশে চলে আসে। তারপর? তারপর কী হয়? নিজস্ব মতামতঃ কাহিনীসংক্ষেপ পড়ে আলেক্সান্ডার বেলায়েভের “উভচর মানব” এর সাথে বইটিকে কিছুটা রিলেট করা যাচ্ছেনা? বইটির লেখক নিজেই অবশ্য বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি “উভচর মানব” থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বইটি লিখেছেন, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এবার আসি বইয়ের কাহিনীর ব্যাপারে। কাহিনী গতানুগতিক, প্রথম থেকে ধীরে ধীরে এগোবে, শেষে টিপিক্যাল একটা ক্লাইম্যাক্স। এই তো, এর বেশি না। তবে,বইয়ের মধ্যাংশে বাবা- মেয়ে’র অকৃত্রিম ভালোবাসার বিষয়টা অবশ্যই ভালো লেগেছে। ক্লাইম্যাক্সটা হাস্যকর লেগেছে, বলতে প্রচন্ড ইচ্ছে করছে, সেখানে কী হয়েছিলো। স্পয়লার হয়ে যাবে, তাই কিছু বলছিনা। বইয়ের ক্লাইম্যাক্স পড়লে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন। কাহিনী ভালো না লাগলেও, বইটা আমার কাছে অমূল্য রত্নবিশেষ। বইয়ের পেছনে মজার একটা কাহিনীও আছে। বইমেলায় গিয়েছি, অনেকগুলো বই কিনে ব্যাগভর্তি করে বাসার দিকে ফিরছি। হঠাৎ দেখি, মেলার এক অংশে প্রচন্ড ধুলো উড়ছে, তীব্র ভীড়। কৌতূহলী হয়ে গেলাম ভীড়ের কাছাকাছি। গিয়ে দেখি, ভীড়ের মধ্যমণি মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। সবাই হুড়োহুড়ি করে তাঁর অটোগ্রাফ নিচ্ছে, কেউ ফটোগ্রাফও নিচ্ছে। আমি স্যারকে আগে সামনাসামনি বহুবার দেখলেও তাঁর লেখা নতুন বইতে তাঁরই অটোগ্রাফ আগে নেয়া হয়নি। সে বইমেলায় তাঁর দুটি বই বেরিয়েছিলো। তাম্রলিপি থেকে "গ্রামের নাম কাঁকনডুবি" আর সময় থেকে "সেরিনা।" "গ্রামের নাম কাঁকনডুবি" আগেই কিনে ফেলেছি। কী বিপদ! দৌড়ে গেলাম সময় প্রকাশনীতে। খুব তাড়াতাড়ি করে কিনে ফেললাম সেরিনা, সেদিনই মেলায় প্রথম এসেছে বইটা। বই হাতে নিয়ে ৫০০ টাকার একটা নোট দিলাম, ওরাও ভাংতি দিলো, আমি না গুনে দৌড় দিলাম আবার ভীড়ের মাঝখানে, ততক্ষণে অনেকগুলো টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা চলে এসেছে স্যারের আশেপাশে। ক্যামেরার বুম স্যারের সামনে তাক করা। কোনোকিছু গ্রাহ্য না করে, স্যারের কাছে গিয়ে, বইটা বাড়িয়ে অটোগ্রাফ নিলাম। আহ! সে কী অনুভূতি! নার্ভাস নাইন্টি নাইনে থাকা একজন ব্যাটসম্যান ১০ বল ডটের পর একটা সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি করলে, যে অনুভূতি হয়, অনেকটা সেরকম। বুঝিয়ে বলা যাবেনা। যাক গে, অটোগ্রাফ, ফটোগ্রাফ সব তো হলো। এবার ভাংতি গুনতে গিয়ে দেখি, সেলসম্যান আমাকে ১০০ টাকার দুটি নোট ফিরিয়ে দিয়েছে। যদিও বইয়ের গায়ের দামই ২২৫ টাকা,আমার কাছ থেকে রেখেছে ৩০০ টাকা! তবে, তখন এমনই অবস্থা, সবকিছুই ভালো লাগছিলো। ১০০ টাকা বেশিই খরচ হলো, কী আসে যায়! স্যারের একটা অটোগ্রাফ নিতে পেরেছি, তাতেই খুশি ছিলাম। হয়তো সেলসম্যানও ভুলেই আমাকে একটা নোট কম দিয়েছে, তাকেও একপাক্ষিক দোষ দেয়া যায় না। তবে, সেই ১০০ টাকার আক্ষেপ আমাকে আজো পোড়ায়, আমি নিতান্তই গরীব মানুষ :( বইটা নামেই কল্পবিজ্ঞান, আসলে এটাকে শুধু “কিশোর উপন্যাস” বললেও খুব একটা মিথ্যে বলা হতোনা। স্যারের যেসব অসাধারণ অসাধারণ সায়েন্স ফিকশন আছে, সেগুলোর কাছে “সেরিনা” মোটেও পাত্তা পাবেনা। সত্যি কথা বলতে "সেরিনা" পড়ে আমি হতাশই হয়েছি। স্যারের মাস্টারপিস সব বইয়ের তুলনায় এটা নেহায়েতই একটা তুচ্ছ সাই-ফাই। তবে, যারা আমার মত জাফর ইকবাল স্যারের একটা লেখাও মিস করতে চান না, তাদের জন্যে অবশ্যই অবশ্যপাঠ্য “সেরিনা।“ 

More Information
Country Bangladesh